কটন বাডে কান পরিষ্কার? অজান্তেই বাড়ছে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি!
অনেকেই গোসলের পর বা কানে একটু ময়লা দেখলেই কটন বাড দিয়ে কান পরিষ্কার করেন। আমাদের কাছে এটি খুবই স্বাভাবিক একটি অভ্যাস মনে হলেও, চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে কানের ভেতরে কটন বাড ঢুকিয়ে পরিষ্কার করা বরং ক্ষতির কারণ হতে পারে।
কান নিজেই একটি “self-cleaning” অঙ্গ। অর্থাৎ, সাধারণত কানের ভেতরের মোম বা **earwax** ধীরে ধীরে নিজে থেকেই বাইরের দিকে চলে আসে। তাই প্রতিদিন কানের ভেতর থেকে ময়লা তুলে ফেলার প্রয়োজন হয় না।
কটন বাড ব্যবহার করলে কী ধরনের সমস্যা হতে পারে?
১. কানের ময়লা আরও ভেতরে চলে যেতে পারে
কটন বাড দিয়ে কান পরিষ্কার করার সময় আমরা অনেক সময় ময়লা বের করার বদলে সেটিকে আরও গভীরে ঠেলে দিই। এতে কানে **earwax blockage** তৈরি হতে পারে।
এর ফলে কান বন্ধ লাগা, কম শোনা, কানে চাপ অনুভব হওয়া বা অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।
২. কানের পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে
কটন বাড খুব গভীরে চলে গেলে কানের সূক্ষ্ম অংশে আঘাত লাগতে পারে। সবচেয়ে গুরুতর ক্ষেত্রে কানের পর্দায় ছিদ্র বা আঘাতের মতো সমস্যা হতে পারে।
বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে কানের ভেতরে কোনো ধরনের বস্তু ঢোকানো আরও ঝুঁকিপূর্ণ।
৩. কানে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে
কানের ভেতরের ত্বক অত্যন্ত সংবেদনশীল। বারবার কটন বাড ব্যবহার করলে ত্বকে ছোটখাটো ক্ষত বা জ্বালা তৈরি হতে পারে। এর ফলে ব্যাকটেরিয়া বা অন্যান্য জীবাণুর সংক্রমণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
কানে ব্যথা, চুলকানি, পানি বা পুঁজের মতো তরল বের হওয়া কিংবা দুর্গন্ধ দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়।
৪. সাময়িকভাবে শুনতে কম লাগতে পারে
কানের ভেতরে অতিরিক্ত earwax জমে গেলে শব্দ কানের পর্দায় স্বাভাবিকভাবে পৌঁছাতে বাধা পেতে পারে। তখন মনে হতে পারে যে হঠাৎ করে শ্রবণশক্তি কমে গেছে।
অনেক ক্ষেত্রে সমস্যার কারণ হতে পারে কানের ময়লা জমে যাওয়া—যা কটন বাড দিয়ে পরিষ্কার করতে গিয়ে আরও খারাপ হয়েছে।
তাহলে কান পরিষ্কার করবেন কীভাবে?
সাধারণভাবে কানের বাইরের অংশ পরিষ্কার রাখাই যথেষ্ট। গোসলের সময় বা পরে একটি পরিষ্কার নরম কাপড় দিয়ে কানের বাইরের অংশ আলতোভাবে মুছে নিতে পারেন।
কানের ভেতরে কটন বাড, কলম, কাঠি, চুলের ক্লিপ বা অন্য কোনো বস্তু ঢোকানো থেকে বিরত থাকুন।
যদি কানে অতিরিক্ত ময়লা জমে কান বন্ধ লাগে, শুনতে সমস্যা হয় বা অস্বস্তি তৈরি হয়, তাহলে নিজে থেকে কিছু ঢোকানোর পরিবর্তে একজন চিকিৎসক বা কান-নাক-গলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
কখন দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
নিচের কোনো লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ:
* কানে তীব্র ব্যথা
* হঠাৎ শুনতে কমে যাওয়া
* কান থেকে রক্ত, পানি বা পুঁজ বের হওয়া
* কানে প্রচণ্ড চুলকানি বা ফুলে যাওয়া
* কানে আঘাত লাগার পর সমস্যা তৈরি হওয়া
* মাথা ঘোরা বা ভারসাম্যের সমস্যা
শেষ কথা
কানে ময়লা দেখা গেলেই সেটি পরিষ্কার করার জন্য কটন বাড ব্যবহার করা জরুরি নয়। বরং কানের স্বাভাবিক পরিষ্কার হওয়ার প্রক্রিয়ায় অযথা হস্তক্ষেপ করলে সমস্যা তৈরি হতে পারে।
মনে রাখুন: কানের ভেতরে কটন বাড নয়—প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শই নিরাপদ পথ।
এই লেখাটি সাধারণ স্বাস্থ্যতথ্য হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। ব্যক্তিগত কোনো কানের সমস্যা থাকলে যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।







.jpg)

