রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

মুখে না দিয়েও আমের স্বাদ বোঝা যাবে ‘ইলেকট্রনিক নাক’ দিয়ে

 


‘আম মিষ্টি হবে তো?’ শুরুতেই আমরা জিজ্ঞেস করি বিক্রেতাকে। তারপর নেড়েচেড়ে দেখি, ঘ্রাণ নিই। ঝুড়ি থেকে বেছে বেছে ভালোগুলো তুলে নিই। এত ‘পরীক্ষা-নিরীক্ষা’র পরও অনেক সময় বাড়ি ফিরে দেখা যায়, আম ভালো পড়েনি। এবার সত্যিকার অর্থেই পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে আমের মান নির্ণয়ের পদ্ধতি বের করেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একটি দল। তাঁরা দাবি করছেন, তাঁদের উদ্ভাবিত প্রযুক্তির মাধ্যমে আম না কেটেই এর মিষ্টতা ও পরিপক্বতা পরীক্ষা করা সম্ভব।


গবেষণাকাজের নেতৃত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিশক্তি ও যন্ত্র বিভাগের অধ্যাপক আনিসুর রহমান। সঙ্গে ছিলেন একই বিভাগের দুই শিক্ষার্থী কাজী সাকিবুর রহমান ও এম মিরাজুস সালেহীন। ইতিমধ্যে গবেষণাপত্রটি কিউ-ওয়ান ক্যাটাগরির জার্নাল স্মার্ট অ্যাগ্রিকালচার টেকনোলজিতে প্রকাশিত হয়েছে। এতে কৃষিশক্তি ও যন্ত্র বিভাগের অধ্যাপক চয়ন কুমার সাহা ও তিন শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম, জয়শ্রী ভদ্রা ও ঋতুপর্ণা রায় কাজ করেছেন।


মুখে না দিয়েও আমের স্বাদ বোঝা যাবে ‘ইলেকট্রনিক নাক’ দিয়ে




আমের মিষ্টতা নির্ণয়ের এই প্রযুক্তিকে বলা হচ্ছে ‘ই-নোজ’, যা এম-কিউ সেন্সরের মাধ্যমে কাজ করে। কেন এই নাম? অধ্যাপক আনিসুর রহমান বললেন, ‘আমের গুণমান বুঝতে আমরা ঘ্রাণ শুঁকি, নাকের কাছে নিই। সেই একই কাজ যন্ত্র দিয়ে করা হচ্ছে বলে এর নাম ই-নোজ বা ইলেকট্রনিক নাক। কাঠামোটি তৈরিতে স্বল্পমূল্যের চারটি এমকিউ সেন্সর, একটি রাস্পবেরি পাই, ১২ ভোল্টের ব্যাটারি, ভোল্টেজ কনভার্টার, আর্ডিনো মেগা ও বৈদ্যুতিক তার ব্যবহার করা হয়েছে। এতে ৪০-৪৫ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে।


ই-নোজের চারটি অংশ—গ্যাস চেম্বার, সেন্সর চেম্বার, ডেটা কন্ট্রোলার ও ডেটা স্টোর মডিউল। গবেষক দলের সঙ্গে কথা বলে এর কার্যপ্রক্রিয়া সম্পর্কে জানা গেল—পরীক্ষার জন্য একসঙ্গে চার-ছয়টি আম গ্যাস চেম্বারে রাখা যায়। আমগুলো গ্যাস (ঘ্রাণ) নির্গত করতে থাকে। প্রতি ৩০ মিনিট পরপর এই গ্যাস সেন্সর চেম্বারে নেওয়া হয়। সেন্সরগুলো গ্যাসের ইলেকট্রনিক সংকেত তৈরি করে। সবশেষে উৎপন্ন সংকেতের ওপর ভিত্তি করে ডেটা স্টোর মডিউল আমের মিষ্টতা ও পরিপক্বতা নির্ণয় করে। 


অধ্যাপক আনিসুর রহমান দাবি করেন, এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ১০ মিনিটের মধ্যেই একটি আম পরীক্ষা করা সম্ভব। দীর্ঘ আড়াই বছর গবেষণার পর দলটি সফল হলো। এর মাধ্যমে কৃষক-ব্যবসায়ী উভয়ই উপকৃত হবে বলে জানালেন গবেষক দলের প্রধান আনিসুর রহমান। তিনি বলেন, ‘জাপানে একই ফল কয়েকটি ভাগে বিক্রি করা হয়। একেকটার গুণগত মান একেক রকম থাকে। আমরা আশা করি, ভবিষ্যতে এমন একটা সময় আসবে, যখন বাংলাদেশের মানুষের আয় বাড়বে। তাঁরা বেছে বেছে ভালো মানের ফল, মিষ্টি ফল খেতে চাইবেন। তখন এই প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা চাহিদামতো খাদ্য প্রস্তুত করতে পারবেন।


কৃষিশক্তি ও যন্ত্র বিভাগের শিক্ষার্থী কাজী সাকিবুর রহমান বলেন, ‘আমাদের প্রযুক্তি ব্যবহার করে ৯৮.৩ শতাংশ পর্যন্ত সঠিক মিষ্টতা ও ৯৮.৫ শতাংশ পর্যন্ত সঠিক পরিপক্বতা নির্ণয় করা সম্ভব। সুতরাং এই গবেষণার প্রথম উপকারভোগী হবেন আমচাষিরা। রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় বিঘার পর বিঘা আমবাগান রয়েছে। বাগানের চাষিরা কেবল তাঁদের অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে পরিপক্বতা ও মিষ্টতা বোঝার চেষ্টা করেন। এ ক্ষেত্রে ভুল হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ক্রেতারও ব্যবসায়ীর কথা বিশ্বাস করা ছাড়া উপায় থাকে না। ফলে দেখা যায়, ক্রেতারা প্রায় সময় আম কিনে প্রতারিত হন।

অন্যদিকে, জুস কোম্পানি সঠিকভাবে পরিপক্ব আম সংগ্রহ করতে না পারলে মান খারাপ হতে পারে। হাজার হাজার টন আমের মধ্য থেকে এক-দুটি আম পরীক্ষা করে জুস উৎপাদন করার মধ্যে অনেক ঝুঁকি থাকে। আমাদের প্রযুক্তি ব্যবহার করে একটি আম যেমন পরীক্ষা করা যাবে, এক টন আমও করা যাবে।


Credit: তানভীর রহমান (প্রথম আলো )





মঙ্গলবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

গরমে এসি ছাড়া ঘর ঠান্ডা রাখার ১৫টি টিপস

 



গরমে এসি ছাড়া ঘর ঠান্ডা রাখার ১৫টি টিপস 

আপনি যদি বড় অঙ্কের টাকা খরচ না করে এসি ছাড়া ঘর ঠান্ডা রাখতে চান, তাহলে এই নিবন্ধটি আপনার জন্য। বিশেষজ্ঞরাও এসি বসানোর চেয়ে বরং এই টিপসগুলো মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন; যেগুলো কার্যকর এবং একইসাথে পরিবেশ বান্ধব।

১. জানালা কখন খুলবেন কখন বন্ধ থাকবে?



ঘরের জন্য প্রাকৃতিক আলো জরুরি হলেও গরমকালে ঘরে যত সূর্যের আলো ঢুকবে, ঘর তত গরম হয়ে উঠবে। তাই দিনের বেলায় জানালা বন্ধ রাখুন। বিশেষ করে পশ্চিম ও উত্তরমুখী জানালাগুলো।

জানালাগুলোয় হালকা রঙের, মোটা, সূতির পর্দা টেনে দিন। পর্দাটি এমন পুরু হবে যা ঘর অন্ধকার করে দেবে। পর্দার বাইরের দিকে, অর্থাৎ যে অংশ সূর্যের দিকে থাকে সেদিকে সাদা কাপড় সেলাই করা থাকলে বা আরেকটি সাদা পর্দা থাকলে সূর্যের আলো প্রতিফলিত হয়ে ঘর ঠান্ডা থাকবে।

পর্দায় ঠান্ডা পানি স্প্রে করলে বা পর্দার উপর ভেজা চাদর ঝুলিয়ে দিলে সেই পানি বাষ্পীভূত হয়ে ঘর কিছুটা শীতল হবে। সম্ভব হলে জানালাগুলো পানিতে ধুয়ে নিতে পারেন।

যতক্ষণ সূর্য প্রখর থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত জানালা-দরজা বন্ধ রাখবেন। তবে সূর্যাস্তের পর যখন পরিবেশ কিছুটা ঠান্ডা হতে শুরু করবে, তখন পর্দা সরিয়ে ঘরের সব দরজা জানালা খুলে দেবেন যাতে শীতল বাতাস ঢুকতে পারে৷

ঘরের গরম তাপ বাইরে বের করে দিতে যে ঘরে আপনি থাকবেন, তার জানালা খুলে বাতাস ঢুকতে দিন। তার বিপরীত কোনে থাকা অপর ঘরের জানালা খুলে বাইরের দিকে মুখ করে ফ্যান বসিয়ে দিন। এতে ঘরের গরম বাতাস বাইরে বেরিয়ে যাবে।

একে বলা হয় ক্রস ভেন্টিলেশন যা ঘর দ্রুত ঠান্ডা করে। তবে সকালে কড়া রোদ ওঠার আগেই সব দরজা জানালা আবার বন্ধ করে দিতে হবে।

Click Here:

২. জানালা, দেয়াল ও ছাদে প্রলেপ



জানালায় যদি হিট প্রোটেক্টিভ উইন্ডো ফিল্ম লাগানো হয় তাহলে সেটা ৭৮ শতাংশ সৌর তাপ এবং ৯৯ শতাংশ ক্ষতিকারক ইউভি রশ্মি আটকে দিতে পারে। যার ফলে ঘর গরম হওয়া অনেকটা ঠেকানো যায়।

উইন্ডো ফিল্ম হলো রঙিন স্টিকারের মতো আবরণ যেটা জানালার কাঁচের উপর বসানো হয়। এটা বিভিন্ন অনলাইন মার্কেটে পাওয়া যায়। তবে উইন্ডো ফিল্ম না পেলে জানালার বাইরের কাঁচ সাদা রঙ করে বা সাদা কাগজ লাগিয়ে দিলেও হবে।

এছাড়া দু'টি স্তর বিশিষ্ট কাঁচের জানালা সাধারণ জানালার চেয়ে অনেক ভালো তাপ নিরোধক হিসেবে কাজ করে। এসব কাঁচ তিন থেকে ১০ মিলিমিটার পুরু হয়, যা প্রচন্ড তাপ থেকে রক্ষা করে।

অন্যদিকে, ঘরের ছাদে ও দেয়ালে ইনসুলেশন করলে গরমকালে ঘর ঠান্ডা থাকে আবার শীতকালে ঘর গরম থাকে। এই ইনসুলেশন হলো এক ধরনের মোটা প্রলেপ। এক্ষেত্রে কন্সট্রাকশন বা ইন্টেরিয়র নিয়ে যারা কাজ করেন তাদের সেবা ক্রয় করতে পারেন। আপনার ঘরে কোন ইন্সুলেশন সবচেয়ে ভালো কাজ করবে সেটা তারাই বলে দেবেন।


গরমে এসি ছাড়া ঘর ঠান্ডা রাখার ১৫টি টিপস 

৩. ছাউনি



জানালার উপরে বিশেষ করে পূর্ব পশ্চিমের জানালায় সানশেড থাকলে তা রোদের তাপ অনেকটাই আটকে দেয়। সানশেড না থাকলে জানালার ওপর হালকা রঙের ছাউনি টানিয়ে ছায়ার ব্যবস্থা করতে পারেন।

যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্যমতে, জানালার উপর ছাউনি বসালে সূর্যের তাপ ৭৭ শতাংশ পর্যন্ত আটকানো যায়।


৪. দেয়াল, মেঝে, আসবাবপত্র



ঘরের দেয়াল, মেঝে, আসবাবপত্রের রঙ যত গাঢ় হয় তত বেশি আলো শোষণ করে এবং তাপমাত্রা বাড়ে। আর রঙ যত হালকা হয়, আলো তত কম শোষণ হয়, প্রতিফলিত হয় বেশি এতে তাপমাত্রা তেমন বাড়ে না। তাই ঘরের দেয়াল, মেঝে ও আসবাবপত্রের রঙ হালকা রাখার চেষ্টা করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে দেয়ালে তাপনিরোধী পেইন্ট ব্যবহার করা যায়।

এছাড়া মেঝে ঠান্ডা রাখার ক্ষেত্রে মার্বেল, স্যান্ডস্টোন বা গ্রানাইটের টাইলস খুব ভালো। তবে এগুলো অনেক দামি। এক্ষেত্রে কাঠ, ভিনাইল প্ল্যাঙ্ক, সাদা রঙের সিরামিকের টাইলস বা পোরসেলিন টাইলস ব্যবহার করলে ঘর ও আশেপাশের তাপমাত্রা অনেক কমে আসবে।

মাটির ঘর হলে মাটি নতুন করে লেপে দিলেও ঘরে ঠান্ডা ভাব থাকবে। এছাড়া আসবাবপত্র কাঠের হলে হালকা রঙের বার্নিশ করিয়ে নেয়া যেতে পারে। সবকিছু হালকা রঙ হলে দিনের আলো চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘর ঠান্ডা হতে শুরু করবে।

আরেকটি বিষয়; ঘরের ভেতর আসবাবপত্র যতটা সম্ভব কম রাখলে তাপ শোষণও কম হবে।

গরমে এসি ছাড়া ঘর ঠান্ডা রাখার ১৫টি টিপস 

৫. ছাদ


কারও ছাদ যদি গাঢ় রঙের হয় তাহলে ওই বাড়ির তাপমাত্রা অনেকটা বেড়ে যায়। অন্যদিকে, বাড়ির ছাদ যদি সাদা রঙে ছেয়ে দেয়া যায় সেটা টিনের ছাদ হোক বা কংক্রিটের, সূর্যের আলোর বেশিরভাগই প্রতিফলিত হবে। এতে বাড়ি ঠান্ডা থাকবে।

দেখা গিয়েছে সাদা রঙ ৮৫ শতাংশ আলো প্রতিফলিত করতে পারে যেখানে গাঢ় রঙ প্রতিফলন করে মাত্র ২০ শতাংশ। সাদা রঙ করা ছাদের বাড়িগুলো দ্বিগুণেরও বেশি ঠান্ডা থাকে।

অনেকে আছেন বাড়ির ছাদে ও আশেপাশে কংক্রিট পেভমেন্ট ব্লক বসান। কিন্তু এই ব্লকগুলো গরম ধরে রাখে। এতে দিন ও রাত দুই সময়ে পরিবেশ প্রচণ্ড গরম থাকে। এক্ষেত্রে সাদা টাইলস বিকল্প সমাধান হতে পারে।

ছাদ ঠান্ডা রাখার আরেকটি ভালো উপায় ছাদে বাগান করা। আবার ঘাসও বিছিয়ে দেয়া যায়। এক্ষেত্রে ছাদটি ওয়াটার প্রুফ বা পানি নিরােধক হতে হবে। এছাড়া ছাউনি লাগিয়ে বা ছাদে সোলার প্যানেল বসিয়েও সমস্যার সমাধান করা যায়।

Click Here:

৬. সিলিং ফ্যান



কখনও কখনও আপনার মনে হতে পারে সিলিং ফ্যান ঘর তো ঠান্ডা করছেই না বরং গরম বাড়াচ্ছে।এমনটা হওয়ার কারণ ফ্যানটি ঠিক দিকে ঘুরছে না। ফ্যানের পাখাগুলো ঘড়ির কাঁটার গতিতে ঘুরলে ছাদের গরম বাতাস চারিদিকে ছড়িয়ে যায়।

কিন্তু পাখাগুলো ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে ঘুরলে সেটা গরম বাতাস ঠেলে বের করে দিয়ে ঘর ঠান্ডা করতে পারে। তাই খেয়াল করে দেখুন আপনার ফ্যান ঠিক দিকে ঘুরছে কি না। সিলিং ফ্যান সবসময় পরিষ্কার রাখতে হবে। অপরিষ্কার ফ্যান থেকে ঠিকঠাক বাতাস পাওয়া যায় না।

গরমে এসি ছাড়া ঘর ঠান্ডা রাখার ১৫টি টিপস 

৭. ঠান্ডা বাতাস



ঘরের ফ্যান থেকে এয়ার কুলারের মতো ঠান্ডা বাতাস পেতে একটি প্লেটের উপর বড় বেশ খানিকটা বরফ রেখে সেই বরাবর টেবিল ফ্যান ছেড়ে দিন।

সিলিং ফ্যানের সরাসরি নীচে রাখলেও হবে। এতে ঘরের বাতাস দ্রুত ঠান্ডা হয়ে আসবে। তবে বরফ রাখার পাত্রটি অগভীর হলেই ভালো। বরফ না থাকলে ফ্যানের সরাসরি নীচে ঠান্ডা পানির বালতি রাখলেও কাজে দেবে।

এছাড়া ঘর ঝাড়ু দেয়ার পর দিনে কয়েকবার বরফ ঠান্ডা পানিতে ঘর ভেজা ভেজা করে ঘর মুছে নিলে তা ঘর ঠান্ডা রাখতে বেশ কার্যকর উপায়।

৮. এক্সস্ট ফ্যান



ঘর ঠান্ডা রাখতে বিশেষ করে ঘরের ভেতরের তাপ বাইরে বের করে দিয়ে এবং বাইরের ঠান্ডা বাতাস ভেতরে টেনে আনতে এক্সস্ট ফ্যান একটি ভালো সমাধান। এটি মূলত দেয়ালের উপরের দিকে বসানো বৈদ্যুতিক পাখা।

এটি রান্নাঘর ও টয়লেটসহ যেকোনও ঘরেই বসানো যেতে পারে। রান্নাঘরে যতক্ষণ রান্না করবেন ততোক্ষণ ফ্যানটি চালিয়ে রাখতে হবে। এই পদ্ধতিটি তখনই ভালো কাজ করে যখন ভিতরের তাপমাত্রা বাইরের থেকে বেশি হয়।

গরমে এসি ছাড়া ঘর ঠান্ডা রাখার ১৫টি টিপস 

১০. বাতি পরিবর্তন


আপনি ঘরে কী ধরনের বাতি জ্বালান তার সাথে তাপমাত্রার বড় যোগ আছে। বাংলাদেশে একসময় হলদে আলোর হ্যালোজেন বাতি ব্যবহৃত হতো, যা প্রচুর তাপ উৎপন্ন করে।

কিন্তু গত দুই দশক ধরে এলইডি লাইটের মতো বিদ্যুৎ-সাশ্রয়ী বাতির ব্যবহার বেড়েছে। যার বড় সুবিধা এতে তাপ উৎপন্ন হয় খুব কম।

একটি বৈদ্যুতিক বাতি খুব সামান্য হলেও তাপ উৎপন্ন করে থাকে। তাই যেসব বাতির প্রয়োজন নেই সেগুলো বন্ধ রাখা দরকার।

১১. রান্না



আপনি কখন ও কতক্ষণ ধরে রান্না করছেন সেটিও বেশ জরুরি। কেননা রান্না অনেক তাপ উৎপন্ন করে এবং আপনার বাড়ির তাপমাত্রা অনেকখানি বাড়িয়ে দেয়। তাই গরমে এমন খাবার খাওয়া যেতে পারে, যেগুলো অল্প সময়ে রান্না হয়ে যায় বা যেগুলো রান্নার প্রয়োজন নেই।

এতে চুলা বা ওভেন অল্প সময় চালু থাকে, ফলে উত্তাপ কম ছড়ায়। তবে যাদের রান্নাঘর মূল ঘরের বাইরে তাদের ঘর অনেকটা ঠান্ডা থাকে।

গরমে এসি ছাড়া ঘর ঠান্ডা রাখার ১৫টি টিপস 

১২. বৈদ্যুতিক যন্ত্র


আপনার ঘরে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি যেমন মোবাইল, চার্জার, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, ওভেন, আয়রন, হেয়ার ড্রায়ার, প্রতিনিয়ত তাপ উৎপন্ন করে।

আপনি যন্ত্রটি চালাচ্ছেন না কিন্তু প্লাগ ইন করে রেখেছেন, এতেও তাপ উৎপন্ন হয়। তাই যন্ত্র ব্যবহার শেষে প্লাগের সংযোগ খুলে ফেলাই ভালাে। গরমকালে ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস যতটা কম ব্যবহার করা যায়, এতে বিদ্যুৎ খরচ কম আসবে, ঘরও ঠান্ডা থাকবে।

Click Here:

১৩. গাছ



যদি আপনার বাড়ির আঙিনায় খোলা জায়গা থাকে তাহলে সেখানে ছায়া দেয়ার মতো বড় গাছ লাগাতে পারেন। গাছ বড় করে তুলতে সময় ও ধৈয্যের দরকার কিন্তু এর ফলাফল খুবই কার্যকর। কারণ একটি ছায়া দেয়া বড় গাছ ৭০ শতাংশ রোদ ঠেকাতে সক্ষম।

এক্ষেত্রে জরুরি হলো সঠিক গাছ বাছাই করা যা আপনার ঘরকে আসলেও ঠান্ডা রাখবে, বাতাস বিশুদ্ধ রাখবে, ছায়া দেবে। এটা ফুল গাছ বা ফল গাছ কিংবা অন্য গাছও পারে, নির্ভর করবে মাটি ও জায়গার পরিধির ওপর।

এছাড়া ঘরে গাছ থাকলে ভিতরে জমা হওয়া কার্বন ডাই-অক্সাইড শুষে নেয়, ফলে ঘরের তাপমাত্রা তুলনামূলক কম থাকে। এক্ষেত্রে মানিপ্ল্যান্ট, অ্যালোভেরা, অ্যারিকা পাম-জাতীয় গাছ বেছে নিতে পারেন। ঘরের বাইরে ঘাসজাতীয় গাছ লাগালে কিংবা বাগান বিলাস গাছ লাগালেও ঘর ঠান্ডা থাকবে।

১৪. ডিহিউমিডিফায়ার


আপনি যদি এসি কিনতে না চান সেক্ষেত্রে ডিহিউমিডিফায়ার কিনতে পারেন। এর কাজ হলো ঘরের আর্দ্রতা শোষণ করা। বাংলাদেশের জলবায়ুতে প্রচুর জলীয় বাষ্প থাকায় গরম বেশি অনুভূত হয় এবং অস্বস্তি লাগে।

তবে ডিহিউমিডিফায়ারের সাহায্যে আর্দ্রতা বের করে দিতে পারলে অনেকটাই ঠান্ডা আর আরামদায়ক লাগে।

গরমে এসি ছাড়া ঘর ঠান্ডা রাখার ১৫টি টিপস 

১৫. শরীর ঠান্ডা রাখা


ঘর ঠান্ডার রাখার ক্ষেত্রে জরুরি হলো ঘরে থাকা মানুষদের শরীর ঠান্ডা রাখা। আর এজন্য তাদের পর্যাপ্ত পানি খেতে হবে, সহজে হজম হয় এমন খাবার খেতে হবে, দিনে অন্তত একবার বা দু'বার ঠান্ডা পানিতে গোসল করতে হবে এবং সুতির হালকা রঙের পাতলা ঢিলেঢালা পোশাক পরতে হবে।

প্রয়োজনে গায়ে পানি ছিটিয়ে ফ্যানের বাতাসে শরীর ঠান্ডা করতে হবে।


এই ১৫টি পদক্ষেপ নিলে আপনার ঘর এসির মতো না হোক, আগের চাইতে অনেকটাই ঠান্ডা থাকবে, সেটা বলা যেতে পারে।


TAG: এই গরমে এসি ছাড়াই ঘর ঠান্ডা রাখবেন যেভাবে, বিল্ডিং ঠান্ডা রাখার উপায়, পানি ঠান্ডা রাখার উপায়, পাকস্থলী ঠান্ডা রাখার উপায়, এসি কততে চালালে বিল কম আসে, গরম বাতাস বের করার ফ্যান, গরমে অসুস্থ, এসি বাজার

গরমে এসি ছাড়া ঘর ঠান্ডা রাখার ১৫টি টিপস - BBC News বাংলা



সোমবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

"বেগমপাড়ায় ছুটছেন সাহেবরা" কি রয়েছে সেখানে?

 



বেগমপাড়ায় ছুটছেন সাহেবরা -এটি কালের কণ্ঠ পত্রিকার প্রধান শিরোনাম। এ খবরে বলা হয়েছে, ঘুষ, দুর্নীতিসহ নানা অবৈধ উপায়ে দেশের সাধারণ মানুষের টাকা লুটে নিয়ে একদল বিলাসী জীবন যাপন করছে কানাডার বেগমপাড়ায়, কেউ বা দুবাই, মালয়েশিয়ায়-সিঙ্গাপুরে।


দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদ, সুবিধাবাদী আমলা, ক্ষমতার শীর্ষ মহলের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীরা হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট করে এখন লাপাত্তা।


একসময় ওইসব ‘সাহেব’ দেশে টাকা লুট করতেন, আর তা নিজেদের বউ-বাচ্চাদের ‘বেগমপাড়া’ কিংবা ‘সেকেন্ড হোমে’ বিলাসী জীবনযাপনের জন্য পাঠাতেন। এখন ওই ‘সাহেব’দেরও অনেকে ‘বেগম’দের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন।

অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর রীতিমতো কানাডার ‘বেগমপাড়া’ কিংবা সেকেন্ড হোমে দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া রাজনীতিবিদ, আমলা আর ব্যবসায়ীর ভিড় বেড়েছে বলে জানা গেছে।


বিভিন্ন সূত্র থেকে খোঁজ নিয়ে আরো জানা যায়, মামলা, জেল-জরিমানা আর শাস্তির ভয়ে তাঁরা বিভিন্ন উপায়ে ওই সব উন্নত দেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। তবে সরকার এঁদের পাচার করা টাকা ফিরিয়ে আনতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।


প্রধান উপদেষ্টা ও অর্থ উপদেষ্টা এরই মধ্যে অন্তত পাচারের এক লাখ কোটি টাকা ফেরাতে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের নতুন সরকার নিয়ে নিশ্চিত হতে পারছে না ভারত। শেখ হাসিনা সরকারের কাছ থেকে দিল্লি ঢাকার কাছ থেকে যে ধরনের সুবিধা পেত, তাকে সমতার জায়গায় নিয়ে যাওয়ার ঘোষণা ইতোমধ্যে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার দিয়েছে।


ফলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যতে কী ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে এবং তা মোকাবেলা করার জন্য প্রস্তুত থাকতে ভারতের সেনা নেতৃত্বকে নির্দেশনা দিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তার এ ধরনের বক্তব্যকে কৌশলগত বার্তা হিসেবে দেখছেন ঢাকার নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।

‘মুক্ত খালেদা জিয়ার দিন কাটছে যেভাবে’ শিরোনামে মানবজমিন প্রথম পাতায় খবর প্রকাশিত হয়েছে। খবরে বলা হয়েছে, এক মাসেরও বেশি সময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর ২১শে আগস্ট গুলশানের বাসায় ফেরেন দুর্নীতির দুই মামলার দণ্ড থেকে মুক্তি পাওয়া বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া।

মুক্তি পেলেও অসুস্থতার কারণে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছেন না। যদিও ২৪ ঘণ্টাই চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, বিএনপি চেয়ারপারসন এখনো সুস্থ নন। আগে তিনি বন্দি ছিলেন, এখন মুক্ত।



দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে আসায় খালেদা জিয়া মানসিকভাবে স্বস্তিতে দিন কাটাচ্ছেন। শরীর কিছুটা ভালো থাকলে বই, পত্রিকা এবং টেলিভিশন দেখে সময় কাটান খালেদা জিয়া। গত চৌঠা সেপ্টেম্বর রাতে খালেদা জিয়ার সঙ্গে গুলশানের বাসভবনে দেখা করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ ক্যাথেরিন কুক।

বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়ার মতো শারীরিকভাবে এখনো সুস্থ নন খালেদা জিয়া।মেডিকেল বোর্ড খালেদা জিয়াকে যুক্তরাজ্যে কিংবা যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যেতে চায়। বেশ লম্বা সময় ফ্লাই করার মতো শারীরিক অবস্থা হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিয়ে যাওয়া হবে।

জাতীয় সঙ্গীতের বিষয়ে ধর্ম উপদেষ্টার বক্তব্য নিয়ে দেশ রূপান্তর পত্রিকার প্রথম পাতার একটি শিরোনাম ‘বিতর্ক সৃষ্টি হয় এমন কিছু করবে না অন্তর্বর্তী সরকার’। খবরে বলা হয়েছে, বিতর্ক সৃষ্টি হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এমন কিছু করবে না বলে জানিয়েছেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন।


তিনি বলেন, "জাতীয় সঙ্গীত পরিবর্তন করা একটি বিতর্কিত ইস্যু। এটি বিতর্ক সৃষ্টির চেষ্টা। প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন বিতর্ক সৃষ্টি হয় এমন কিছুতে আমার হাত দেব না। শনিবার দুপুরে রাজশাহী ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাক্ষে সব ধর্মের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মত বিনিময়সভায় যোগ দেয়ার আগে তিনি এসব কথা বলেন।



এ সময় তিনি বলেন, বর্তমানে আমরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে সব থেকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছি। আমরা এই মুহূর্তে এমন কোনো কাজ করতে চাই না যা নিয়ে কোনো বিতর্ক সৃষ্টি হোক। সবাইকে নিয়ে আমরা একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে চাই।

‘পাচার হওয়া অর্থ কি ফিরিয়ে আনা সম্ভব? ব্যাংকাররা বলছেন সম্ভব' ইংরেজি দৈনিক দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রথম পাতার শিরোনাম এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে আনতে একটি সমন্বিত প্রচেষ্টা দরকার বলে জানিয়েছেন ব্যাংকাররা। শনিবার রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেনে আয়োজিত ‘ সেইভ দ্য ব্যাংকার্স’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তারা এ কথা বলেছেন।

অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আর এফ হুসাইন বলেছেন, বিএনপি বা তার আগে আওয়ামী লীগ আমলে কোনো দুর্নীতি হয়নি এমনটা বললে ভুল হবে। তবে দুর্নীতির স্কেল অনেক ছোট ছিল।


তার আগে, তৎকালীন সরকার নতুন ব্যাংকের লাইসেন্স দেয়া শুরু করে এবং এই লাইসেন্সগুলি অর্থ পাচারের সাইন বোর্ড ছাড়া আর কিছুই নয় বলে ওই খবরে বলা হয়েছে।


এবিবির সাবেক চেয়ারম্যান এবং এমটিবি ও আইডিএলসির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিস এ খান বলেন, কিছু এজেন্সি এবং বিশেষজ্ঞ আছে যারা পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনতে সাহায্য করতে পারে, কিন্তু সেগুলো খুবই ব্যয়বহুল।


তিনি বলেন, “এটি একটি জটিল প্রক্রিয়া। মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে পুলিশকে জড়িত করতে হবে, এটিকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার জন্য আইনজীবীদের নিয়োগ করতে হবে”।

একটি উদাহরণ দিয়ে এই ব্যাংকার বলেন, ২০১৮ সালে এমটিবিতে তারা রিভার্স মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে সফলভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের আইনি অনুমোদন নিয়ে লন্ডনে অর্থ ফেরত দিয়েছেন।ব্যাংকাররা বলেন, বিভিন্ন দেশে পাচার করা বা চুরি করা অর্থ উদ্ধারের উদাহরণ রয়েছে।

‘সীমান্তে ফেলানী ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে বিজিবিকে নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা’ ইংরেজি পত্রিকা নিউ এইজের প্রথম পাতার একটি শিরোনাম।


স্বরাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী শনিবার বলেছেন, তিনি আবার ভারত সীমান্তে ফেলানীর মতো বাংলাদেশি নাগরিকদের হত্যা দেখতে চান না।


ঢাকায় বিজিবি পিলখানা সদর দপ্তরে বিজিবির সদস্যদের উদ্দেশ্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “ফেলানির মতো হত্যাকাণ্ড আর দেখতে চাই না। সীমান্তে আপনার পিঠ দেখাবেন না। নিখুঁতভাবে আপনারা দায়িত্ব পালন করুন ”। 

একইসাথে বিজিবি সদস্যদের পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করতেও আহ্বান করেন তিনি। তিনি বলেন, “দুর্নীতি কোনো অবস্থাতেই বরদাস্ত করা হবে না। . . বিজিবি সদস্যদের অবশ্যই আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে হবে”।


‘স্থবির অর্থনীতি সচলের চেষ্টা’প্রথম আলো পত্রিকার প্রথম পাতার শিরোনাম এটি। অন্তর্বর্তী সরকারের এক মাস পূর্তিতে এই সংবাদটি করা হয়েছে।


প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, টানা ১৫ বছরের বেশি ক্ষমতায় থেকেও অর্থনীতির রক্তক্ষরণ বন্ধে আওয়ামী লীগ সরকার যেসব উদ্যোগ নিতে পারেনি, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার ৩০ দিনের মধ্যেই সেসব উদ্যোগ নিতে শুরু করেছে।

অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃত্ব পরিবর্তনের মাধ্যমে সংস্কার ও পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। বিশেষ করে আর্থিক খাতে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতাসীনদের ছত্রচ্ছায়ায় থেকে ব্যাংক দখল করে নামে–বেনামে ঋণ নেওয়ার দিন শেষ হয়েছে বলে বার্তা দেয়া হয়েছে।


গত এক মাসে অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন নেতৃত্ব এসেছে। অর্থনীতির প্রকৃত চিত্র জানতে শ্বেতপত্র প্রণয়নে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।


অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়ে অর্থনীতি আর আর্থিক খাতের পুনর্গঠনে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে। এ বিষয়ে পরিষ্কার একটি বার্তাও এসেছে অর্থনীতিবিষয়ক নেতৃত্বের কাছ থেকে।


তবে নীতি সুদহার কিছুটা বাড়ানো ছাড়া উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এখনো বড় কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। অন্যদিকে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসায় শিল্প খাতে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।


‘রাজধানীতে মধ্যরাতে ব্যাংক ডাকাতির চেষ্টা ’ শিরোনামে প্রথম পাতায় খবর প্রকাশ করেছে আজকের পত্রিকা। রাজধানীতে মধ্যরাতে ব্যাংক ডাকাতির চেষ্টা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। গুলশান-২ এলাকার ফাইন্যান্স স্কয়ার নামে একটি বহুতল ভবনে এক্সিম ব্যাংকের একটি শাখায় ডাকাতির চেষ্টার সময় ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

খবরে বলা হয়েছে, শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে গুলশানের ১০৩ নম্বর সড়কের ফাইন্যান্স স্কয়ার ভবনে ডাকাত প্রবেশ করে। এ সময় স্থানীয়রা ভবনটি ঘেরাও করে ফেলে। পুলিশ ও সেনাবাহিনী এসে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে। তবে, ব্যাংক থেকে কোনো টাকা পয়সা লুট করতে পারেনি ডাকাতরা।


ভবনটির নিরাপত্তাকর্মীরা বলেন, রাত দেড়টার দিকে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি দুটি গাড়ি এবং বেশ কয়েকটি বাইক নিয়ে ভবনটির সামনে আসেন। এরপর দায়িত্বরত নিরাপত্তাকর্মীদের হাত-মুখ বেঁধে ডাকাতির চেষ্টা চালান। স্থানীয়রা টের পেয়ে ভবনটি ঘেরাও করে।


খবর পেয়ে সেখানে যান যৌথ বাহিনীর সদস্যরা। ডাকাত সন্দেহের এই দলটি মাস্ক পরিহিত অবস্থায় ছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে তাঁদের কয়েকজন পালিয়ে যায়, তবে ১০ জনকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়।


প্রতিবেদনটিতে ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বেশ কয়েকজন প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে হওয়ার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগকে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে যারা মুখ্য ভূমিকা পালন করেন, তাদের একটা অংশ ছিলেন সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। আর এসব কর্মকর্তার বেশির ভাগই প্রশাসন ক্যাডার থেকে আসা।


বিগত সরকারের সময় মাঠ প্রশাসন দলীয়করণের মাধ্যমে কর্তৃত্ববাদী শাসন দীর্ঘায়িত করতে তারা প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এসব কর্মকর্তার একটি বড় অংশই আবার চাকরি জীবন শেষে সরাসরি যুক্ত হন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে। দলটির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে জাতীয় সংসদে বসার সুযোগও পেয়ে যান অনেকে।


রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিগত সরকারের কর্তৃত্ববাদী শাসন ব্যবস্থা দীর্ঘায়িত করতে যেসব আমলা ভূমিকা পালন করেছেন, তাদের স্বীকৃতি হিসেবে দলীয় মনোনয়ন দেয় আওয়ামী লীগ। এর মধ্য দিয়ে মূলত প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে দলটি।

দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার প্রথম পাতার শিরোনাম ‘বিপুল অস্ত্র এখনো বাইরে, বাড়ছে নিরাপত্তা সংকট’। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় থানা থেকে লুট হওয়া প্রায় দুই হাজার আগ্নেয়াস্ত্র ও তিন লাখ গুলি এখনো উদ্ধার হয়নি।


উদ্ধার করা যায়নি স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) অত্যাধুনিক অ্যাসল্ট রাইফেল, স্নাইপার রাইফেল, এসএমজি টি-৫৬, ফ্ল্যাশব্যাং গ্রেনেড, অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম, বেতার যোগাযোগের ডিভাইস ও বিপুল গোলাবারুদ।


লুট হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ বাইরে থাকায় কি নিরাপত্তাসংকট বাড়ছে কিনা এমন প্রশ্নে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের সভাপতি মেজর জেনারেল (অব) আ ন ম মুনীরুজ্জামান বলেন, “বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ এখন যে উদ্ধার হয়নি, সেটা তো উদ্বেগের”।


“এছাড়া গণভবন ও সংসদ ভবন থেকে এসএসএফের যে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র লুট হয়েছে, সেগুলো তো কোনোভাবেই সাধারণ নাগরিকের কাছে, এমনকি পুলিশের কাছে থাকাও উচিত নয়। এসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ বাইরে থাকলে যে কোনো সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা থেকে যায়” বলেন তিনি।



পত্রিকা (আটই সেপ্টেম্বর): 'বেগমপাড়ায় ছুটছেন সাহেবরা' - BBC

কটন বাডে কান পরিষ্কার? অজান্তেই বাড়ছে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি!

কটন বাডে কান পরিষ্কার? অজান্তেই বাড়ছে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি! অনেকেই গোসলের পর বা কানে একটু ময়লা দেখলেই কটন বাড দিয়ে কান পরিষ্কার করেন। আমাদে...